বিদুরনীতি
বিদুরনীতি
১.
বাক্ সংযমো হি নৃপতে সুদুষ্করতমো মতঃ।
অর্থবচ্চ বিচিত্রং চ ন শক্যং বহু ভাষিতুম্ ।। বিদুরনীতি-২/৩৬
অনুবাদঃ- হে রাজন ! বাণী সংযম করা খুবই কঠিন মানা হয়েছে, সার্থক এবং চমৎকারপূর্ণ বচন বেশি বলা যায় না, অতঃ দুষ্কর হওয়া সত্বেও বাণী সংযম করা উচিত।
২.
পর্জন্যনাথাঃ পশবো রাজানো মন্ত্রিবান্ধবাঃ।
পতয়ো বান্ধবাঃ স্ত্রীণাং ব্রাহ্মণা বেদবান্ধবাঃ।। (বিদুরনীতি-২/৩৮)
ভাবার্থঃ- পশুসকলের রক্ষক মেঘ=বাদল , (যথাসময় বৃষ্টি হলে পর্যাপ্ত অন্ন উৎপন্ন হয়)। রাজাদের সহায়ক মন্ত্রী। স্ত্রীদের সহায়ক তাদের পতি এবং ব্রাহ্মণদের বন্ধু বেদ।
৩.
অভ্যাবহতি কল্যাণং বিবিধং বাক্ সুভাষিতা।
সৈব দুর্ভাষিতা রাজন্ননর্থায়োপপদ্যতে।। (বিদুরনীতি-২/৭৭)
ভাবার্থঃ- হে রাজন ! মধুরতার সহিত বলা বচন অনেক প্রকার কল্যাণকর হয়, পরন্তু সেই বচনই কটু এবং কঠোর শব্দ দ্বারা যদি বলা হয় তাহলে ঘোড় অনর্থের কারণ হয়ে যায়।
৪.সত্যং রূপং শ্রুতং বিদ্যা কৌল্যং শীলং বলং ধনম্।
শৌর্যং চ চিত্রভাষ্যং চ দশেমে স্বর্গযোনয়ঃ।। (বিদুরনীতি-৩/৫৮)
ভাবার্থঃ- সত্যভাষণ, সৌন্দর্য অথবা বিনীতমুদ্রা, অধ্যয়ণ, বিদ্যা, কুলীনতা, শীল, বল, ধন, শৌর্য এবং যুক্তিযুক্ত বচন - এই দশটি স্বর্গ=সুখ প্রাপ্তির সিঁড়ি।
৫.
হিতং যত্ সর্বভূতানানাত্মনশ্চ সুখাবহম্।
তত্ কুর্যাদীশ্বরে হ্যেতন্মূলং সর্বার্থসিদ্ধয়ে।। (বিদুরনীতি-৫/৩৮)
ভাবার্থঃ- যে কার্য সর্ব প্রাণীর জন্য হিতকর এবং নিজের জন্যও সুখকর, তাহা ঈশ্বরার্পণ বুদ্ধি দ্বারা করবে, ইহাই সম্পূর্ণ সিদ্ধির মূল মন্ত্র।
৬.
তপো বলং তাপসানাং ব্রহ্ম ব্রহ্মবিদাং বলম্।
হিংসা বলমসাধুনাং ক্ষমা গুণবতাং বলম্।। (বিদুরনীতি-৭/৬৫)
ভাবার্থ- তপস্বিগণেরর বল তপ, ব্রহ্মবেত্তা-
গণের বল বেদ এবং ঈশ্বর, দুষ্টদের বল হিংসা
এবং গুণবানগণের বল ক্ষমা।

0 Comments