আর্যভট্ট ও পৃথিবীর ব্যাস
প্রাচীন আর্য বিজ্ঞানী পরিমাপ করে গিয়েছিলেন পৃথিবীর ব্যাস
প্রশ্নঃ একজন প্রাচীন আর্য বিজ্ঞানী নাকি পৃথিবীর ব্যাস কত তা হিসেব করে গিয়েছিলেন? এটা কি সত্য?
উত্তরঃ হ্যাঁ সত্য। তাঁর নাম জানেনা এমন মানুষ কম ই আছে। তিনি বিখ্যাত আর্য বিজ্ঞানী আর্যভট্ট। আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বছর আগে তাঁর লিখিত চিরস্মরণীয় প্রাচীন বিজ্ঞান গ্রন্থ আর্যভট্টীয়তে তিনি এই হিসেব পরিমাপ করেন।
তাঁর আর্যভট্টীয় গ্রন্থের ৪ টি খণ্ড- গীতিকাপাদ, গণিতপাদ, কালক্রিয়াপাদ, গোলপাদ।
গীতিকাপাদের ৭ নং শ্লোকে তিনি পৃথিবীর ব্যাস উল্লেখ করেছেন-
নৃ-ষি যোজনং ঞিলা ভূ-
ব্যাসো ऽর্কেন্দ্বোর্ঘিঞা গিণ ক মেরোঃ৷
ভৃগু-গুরু-বুধ-শনি-ভৌমাঃ
শশি-ঙ-ঞ-ণ-ন-মাংশকাঃ সমার্কসমাঃ৷
অর্থাৎ ৮০০০ নৃ তে ১ যোজন, পৃথিবীর ব্যাস ১০৫০ যোজন, চন্দ্রের ব্যাস ৩১৫ যোজন...
আমরা জানি ১ যোজন প্রায় ১২ কিলোমিটার এর সমান। আর নৃ হলো মানুষ। আর্যভট্ট তাঁর স্থানীয় মানুষদের গড় উচ্চতা ধরেছেন ১.৫ মিটার প্রায়।
আর্যভাটিয়া, গীতিকাপাদ, অধ্যায় ১, শ্লোক ৭
পৃথিবীর ব্যাস ১০৫০ যোজন
১ যোজন= ১২ কিলোমিটার
তাহলে ১০৫০ যোজন= ১২৬০০ কিলোমিটার, অর্থাৎ আর্যভট্টের হিসেবে পৃথিবীর ব্যাস ১২৬০০ কিলোমিটার।
অপরদিকে বর্তমান বিজ্ঞান অনুসারে পৃথিবীর ব্যাস ১২৭৪২ কিলোমিটার!
অর্থাৎ কোন উন্নত প্রযুক্তি ব্যতীতই কেবল স্থানাংকের মাধ্যমেই ৯৯ শতাংশ নিখুঁত হিসেব করেছিলেন আর্যভট্ট ১৫০০ বছর পূর্বেই!
এছাড়াও π এর মান নিখুঁতভাবে নির্ণয়, গ্রহসমূহের ঘূর্ণন, সৌরবছরের পরিমাপ নির্ণয়, চন্দ্র-সূর্য গ্রহণের বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর এই গ্রন্থের অভূতপূর্ব অবদান ছিল।
আর্যভট্টের প্রভাব এতই বেশী ছিল যে সুদূর আরবের সকল গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদরাও তাঁর গ্রন্থ অনুবাদ ও অনুসরণ করতেন। আরব জ্যোতির্বিদ ইয়াকুব ইবনে তারিক পৃথিবীর ব্যাস নির্ধারণ করেছিলেন আর্যভট্টের বই থেকেই তার Tarkīb al‐aflāk গ্রন্থে।
বিখ্যাত আরব জ্যোতির্বিদ আল-খোয়ারজিমি আর্যভট্ট থেকেই আরবিক-হিন্দু নিউমেরাল পদ্ধতি চালু করেন।
(ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন মহারাষ্ট্রের পুনে তে Inter-University Centre for Astronomy and Astrophysics এ অবস্থিত আর্যভট্টের ভাস্কর্য)

0 Comments